
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন,অজপাড়াগাঁয়ের কাদামাটি পেরিয়ে আমরা স্কুলে গিয়েছি। গ্রাম থেকে উঠে এসেও আমরা শহরের শিক্ষার্থীদের পেছনে ফেলেছি। সততা, পরিশ্রম ও সাধনা থাকলে গ্রামের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে।
শনিবার বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরের বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবির এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন,যারা শহরে পড়াশোনা করেছে আর আমরা যারা খেতের আইল দিয়ে হেঁটে ধানের গন্ধ পেয়ে বড় হয়েছি,আমাদের মন ও স্বাস্থ্য অনেক বেশি সতেজ ছিল। ফলে শহরের ধনীর দুলালেরা আমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠেনি। গ্রামে কিংবা দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছ বলে কখনো মন দুর্বল করা যাবে না। রাস্তাঘাট না থাকা বা দুর্গম এলাকা কোনো বাধা নয়,সত্যিকার পরিশ্রম করলে শহরের শিক্ষার্থীরাও তোমাদের সম্মান জানাতে বাধ্য হবে।
অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন,কষ্ট ও সাধনা থেকে দূরে সরে যাওয়া যাবে না। মোবাইল ফোন নিয়ে পড়ে থাকলে ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে। এমন একদিন আসবে যখন তোমরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হবে, তখন গ্রামের এই লড়াইটাই ইতিহাস হয়ে থাকবে। আর ভালো স্থানে পৌঁছাতে না পারলে সমাজ অবমূল্যায়ন করবে।
উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সহিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং শাল্লা উপজেলা সভাপতি মো. শাহনুর আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ, সুনামগঞ্জ জেলা শিবিরের সভাপতি ফারহান শাহরিয়ার ফাহিম এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি রেজাউল ইসলাম,দিরাই প্রস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসাইন ।
অনুষ্ঠানে অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন দিরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি জিয়াউর রহমান লিটন এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখের সাকিব আহমদ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, অভিভাবক ও দিরাই-শাল্লা উপজেলার শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।