November 6, 2026, 4:46 pm

বাড়ির দিকে গুলি, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

Reporter Name

জগন্নাথপুর উপজেলার শাহারপাড়া নারাইনপুর গ্রামে গোলাগুলির  ঘটনা ঘটে একপক্ষের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের ভয়ভীতি দেখানো, হত্যার হুমকি এবং বাড়ির আশপাশে গুলি চালানোর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছে পরিবারটি।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মূল ঘটনাটি ঘটে ২১ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে।

এর আগে ১২ তারিখ বুধবার, পরিবারের সদস্য জুবায়েলকে বাড়ির সামনে/রাস্তায় আটকিয়ে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, এ সময় সুরত মিয়া কামালী, লাল মিয়া কামালী এবং সুরত মিয়া কামালীর ছেলে রিয়াদ কামালী দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে জুবায়েলকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তার গাড়িতে হামলা করেন।

পরিবারটির আরও অভিযোগ, মূল ঘটনার আগে ১৭, ১৮ ও ১৯ তারিখ—পরপর তিন রাত তাদের বাড়ির দিকে গুলি চালানো হয়। তাদের দাবি, তাদের ভয় দেখানো এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখার উদ্দেশ্যেই এসব ঘটনা ঘটানো হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯ তারিখ রাতে গুলির ঘটনার বিষয়ে তারা জগন্নাথপুর থানায় বিষয়টি অবহিত করেন।
২১ আগস্ট ঘটনার পর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে তাদের পরিবারের একজন বয়স্ক সদস্যকে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ৮০ বছরের বেশি বয়সী এবং অসুস্থ; এমনকি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারেন না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে যেসব অস্ত্র ও গুলির মামলা/অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবী তাদের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রমাণ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করলে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে তারা মনে করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, অতীতেও সুরত মিয়া কামালী, লাল মিয়া কামালী ও আজহারুল কামালী-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অস্ত্র সংক্রান্ত মামলা এবং মারামারির অভিযোগের তথ্য রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

পরিবারটির দাবি, এসব পুরোনো অভিযোগের তথ্যও সংশ্লিষ্ট নথির মাধ্যমে যাচাই করা হোক।

মিফতা-র বিরুদ্ধে অতীতেও মাদক সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, চুরি ও ডাকাতির মতো বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং এসব মামলার কারণে তিনি একাধিকবার জেলও খেটেছেন বলে পরিবারটি দাবি করছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, আদালতের রেকর্ড এবং সরকারি তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। পরিবারটি অনুরোধ করেছে, বর্তমান ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা পূর্বের মামলাগুলোর তথ্যও আইনগতভাবে যাচাই করা হোক।

বর্তমান ঘটনার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে:
• লাল মিয়া কামালী
• সুরত মিয়া কামালী
• সুরত মিয়া কামালীর ছেলে রিয়াদ কামালী
• মঞ্জুর কামালী
• কামরান কামালী
• কাহার কামালী
• মিছবাহ

পুলিশের তদন্তের ফলাফলও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের অনুরোধ, ১৭, ১৮ ও ১৯ তারিখ রাতে গুলি চালানোর অভিযোগ, ১২ তারিখে জুবায়েলকে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তার গাড়িতে হামলার অভিযোগ, ২১ তারিখের মূল ঘটনা এবং ভোর ৪টার দিকে অসুস্থ বৃদ্ধকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাসহ সব বিষয় একসঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কাছে থাকা ভিডিও, ছবি, তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থার কাছে দেওয়া হবে। তারা কোনো ধরনের প্রতিশোধ বা সংঘাত চায় না। তাদের দাবি, সব প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং তদন্তে যার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা