November 5, 2026, 3:21 pm

দোয়ারাবাজারে বৃদ্ধ হত্যা: পুত্রবধুসহ গ্রেপ্তার ৩

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় দাফনের প্রস্তুতিকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রহস্য উদঘাটন করেছে। ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রোববার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নিহত মোহাম্মদ আলীর পুত্রবধূ হোসনা বেগম (৩৮), পাশের হাবিবনগর গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে

রুহুল আমিন (২২) ও কুদ্দুস মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম (২০)। পুলিশের দাবি, হোসনা বেগম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। আর রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুত্রবধূর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে মোহাম্মদ আলী নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে তিনি নিজ শয়নকক্ষে ঘুমাতে যান। সকালে পরিবারের লোকজন তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

পরে শনিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দাফনের প্রস্তুতি দেখতে পায়। তবে নিহতের মুখে রক্তের চিহ্ন ও গলায় কালো দাগ দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুত্রবধূ হোসনা বেগম তড়িঘড়ি করে শ্বশুরের দাফনের চেষ্টা করছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে হোসনা বেগমকে সন্দেহজনকভাবে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভিটায় বসবাস করছিলেন। তাঁর জমি পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি আরবপ্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হোসনা বেগম তাঁর দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। পরে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা