
রোববার (১০ মে) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের ঢাকা লেডিস ক্লাবে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ থেকে ঢাকায় সপ্তাহব্যাপী ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬’ শুরু হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘বিপদমুক্ত নৌযাত্রা, জানমালের সুরক্ষা’।
মন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌপথ মানুষের জীবন ও জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে নৌদুর্ঘটনা এখনও একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, নৌযান মালিক, চালক ও যাত্রী—সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এরইমধ্যে নৌযানের ফিটনেস নিশ্চিত করা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং নৌপথ চিহ্নিত করার আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। একইসঙ্গে নৌপথে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
আমরা চাই প্রতিটি নৌযাত্রা নিরাপদ হোক এবং প্রতিটি পরিবার নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাক বলেও জানান তিনি।
দেশের নৌপথকে শতভাগ নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে মন্ত্রী নৌযান পরিচালনায় নিয়ম-নীতি মেনে চলা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ এবং প্রতিটি নৌযানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা, নিবন্ধন কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নৌপথে দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব এবং ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নৌপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।
এছাড়া নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া বলেন, সারা দেশে পরিচালিত নৌযান শুমারির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত নৌযান শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলোকে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।