August 5, 2026, 12:41 pm
শিরোনাম :
আম্পায়ার সৈকতকে নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিসিবি ফের সক্রিয় হচ্ছে ফুয়েল পাস, লক্ষ্য মোটরসাইকেল হঠাৎ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ঢল দক্ষিণ কোরিয়ায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮ পণ্য পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ গণ-অভ্যুত্থান: রাষ্ট্রপতি নারীশিক্ষার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে সরকার ডেইলি স্টেট পোস্টের বগুড়া জেলা প্রতিনিধিকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন বগুড়া প্রতিনিধি  ইনফো বাংলার মাদকবিরোধী সভা বৃহত্তর সিলেট গণদাবী পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভা অনুষ্ঠিত সিলেটে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (বাবৌযুপ) এর বার্ষিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬ সম্পন্ন

পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ গণ-অভ্যুত্থান: রাষ্ট্রপতি

বাংলা টাইম টিউন ডেস্ক:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আগামীকাল বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের দ্বিতীয় বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ কথা বলেছেন। বাণীতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। প্রবল গণরোষে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় ফ্যাসিস্ট সরকার। জাতি অর্জন করে এক ঐতিহাসিক বিজয়।

জুলাই শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তাঁদের এই বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রয়াত সাবেক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা ও কারাগারে তাঁর দুঃসহ জীবন, বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য গায়েবি মামলা-হামলা, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সমাজে বিভাজন, মিথ্যাচার, নির্বিচার দমন-পীড়নের ফলে মানুষের মনে তুষের আগুনের মতো জ্বলছিল তীব্র ক্ষোভ। এরই সঙ্গে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা, ব্যাংক-বিমাসহ সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে করা হয়েছিল দুর্বল, অচল ও জনবিচ্ছিন্ন। রাষ্ট্রকে পরিণত করা হয়েছিল ভঙ্গুর, তাঁবেদার আর মাফিয়া নিয়ন্ত্রিত। এসব অনাচারের ফলে জনমনে সঞ্চিত হয়েছিল ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ। ফলে কোটা সংস্কারের আন্দোলন দিয়ে শুরু হলেও নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে এই ঘনীভূত ক্ষোভ ও জনরোষ দ্রুত রূপ নেয় সর্বব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে।

গণ-অভ্যুত্থানে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মানবজাতির ইতিহাসে এমন গণজাগরণ বিরল। জাতি জনমানুষের এই ভূমিকা ও অবদান চিরকাল স্মরণে রাখবে, গর্ববোধ করবে, হবে উজ্জীবিত। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, জনগণই সকল রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস-গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় আমাদের এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে-যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার এবং উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না। বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অন্যায়ের অবসান ঘটবে। যেখানে ভোটাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত থাকবে। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন, জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত হবে।’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, রাষ্ট্র শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদান, তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে।’ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা