সুনামগঞ্জে টর্চলাইট জ্বালিয়ে আড়াই ঘণ্টা সংঘর্ষ, এমপিসহ অর্ধশতাধিক আহত সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার এলাকায় জমি বিক্রয়কে কেন্দ্র করে টানা তিনদিন ধরে চলা উত্তেজনার জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাউয়া কোনাপাড়া ও খিদ্রাকাপন গ্রামের লোকজন মুখোমুখি অবস্থানে গেলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জায়গা বিক্রয় সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ টর্চলাইট জ্বালিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে নারী-পুরুষসহ প্রায় ৬০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ১৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে রেফার করা হয়েছে। আহতদের নাম: রুম্মান আহমেদ (৩০), রেজা তালুকদার (৬২), ইশতিয়াক (২৮), হোসাইন আহমদ (২২), জাবেদ তালুকদার (৩৫), আকিব (১৯), আরিফ (২৩), হাসান (২৫), আলামিন (২৩), রবি (২৭), সৌরভ (২৫), আসকন্দর (৬০), মৃদুল (৩৬), সুহেল মিয়া (৩৩), আরিফ (২৫), মাহির মিয়া (১৪), মহসিন (১৩), খোকন (২৬), সুমন (৩৩), সাজন রহমান (৩৬) গুরুতর আহত হয়ে সিলেটে প্রেরিত: আকমল (৩৫), লোকমান (৪০), ইশতিয়াক (২৮), হুসাইন (২২), জাবেদ তালুকদার (৩৫), হাফিজ আলী (৬০), আকিব (১৯), আছকন্দর আলী (৬০), মিদুল (৩৬), আরিফ (২৫), মুহিত (২০), খোকন (২৬), সুমন (৩৩), মইনুল (২৭)সহ আরও অনেকে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান তালুকদারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
একই সঙ্গে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। এদিকে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান পায়ে আঘাত পান,পরে তিনি আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে কৈতক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা এড়াতে টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।