
বহুল আলোচিত ৪ বছরের শিশু ফাহিমা হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, গত ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের জালালাবাদ থানাধীন সোনাতলা গ্রামের শিশু ফাহিমা দুপুরে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় একই দিন পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। শিশু ফাহিমার সন্ধান না পেয়ে এলাকার সচেতন নাগরিক ও যুবসমাজ সম্মিলিতভাবে সোনাতলাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালান। নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় যুবসমাজ অভিযুক্তদের শনাক্তে কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে গত ১১ মে জাকির নামের এক যুবককে জালালাবাদ থানা পুলিশ আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জাকির ফাহিমাকে হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয় বলে জানানো হয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশের সিলেট জেলা ও বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে ঘাতক জাকিরের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
সংস্থার কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন খানের সভাপতিত্বে এবং বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম তালুকদার, সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ সিলেট জেলা সভাপতি সুয়েব আহমদ অভি, সাংবাদিক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া।
এছাড়া নিহত শিশু ফাহিমার নিকটাত্মীয় সুরুজ আলী, দৌলত মিয়া, আব্দুল আহাদ ও আব্দুল হক বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ মো. আনোয়ার হোসেন, আজিজুল ইসলাম আজিজ,আইন বিষয় সহ সম্পাদক আবু ইউজুফ, ধর্ম বিষয় সম্পাদক কাজী লুৎফর রহমান, মানবাধিকার কর্মী আতিফুর রহমান, সুনিয়া বেগম স্হানীয়,যোব সমাজ,আকবর মানবাধিকার কর্মী, আব্দুস সামাদ, মো. জুমের আহমদ, জামাল হোসেন জায়গীরদার, শিশু ফাহিমার প্রতিবেশী মো. দিলোয়ার, মো. মুজিবুর রহমান, এহিয়া মিয়া, সহিদ মিয়া, শরিফ উদ্দিন, তাজুল ইসলাম, তাহিম আহমদ ও রফিক আলী প্রমুখ।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, শিশু ফাহিমার হত্যাকারী জাকির যেন কোনোভাবেই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যেতে না পারে। তারা আরও বলেন, আদালতে এ আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী যেন দাঁড়ান না। বক্তাদের দাবি, শিশু ফাহিমার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইবোনালে হস্তান্তর করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং ভুক্তভোগী পরিবার কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পাবে বলে বক্তৃতারা অভিমত ব্যাক্ত করেন।