November 4, 2026, 2:53 pm

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের দিনভর বিক্ষোভ, পুলিশ বক্স-গাড়ি-কারখানায় অগ্নিসংযোগ

Reporter Name

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। আজ রোববার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে তাঁরা বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে পুলিশ বক্স, কারখানার গোডাউন, মার্কেট, ব্যাংকের শাখা, দোকানপাট ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ ও সফিপুর আনসার একাডেমির ৩ নম্বর ফটক এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন পোশাকশ্রমিকেরা। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পরদিন আজ রোববার সকালেও কর্মস্থলে না গিয়ে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকেরা। সকাল ৮টার দিকে উপজেলার রতনপুর এলাকার করনী নিট কম্পোজিট, নিট এশিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে তেলিচালা, মৌচাক, সফিপুর বাজার ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায়ও বিক্ষোভ শুরু হয়।

এ সময় শ্রমিকেরা বিভিন্ন কারখানার প্রধান ফটকে ভাঙচুর চালিয়ে অন্য শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে। পরে লাঠিসোঁটা হাতে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে মৌচাক এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। সফিপুর এলাকায় মহাসড়কে থাকা একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধের পাশাপাশি যমুনা ব্যাংকের একটি শাখা, দোকানপাট ও বিভিন্ন যানবাহনে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে ওসি শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও শ্রমিক আহত হন। তাঁদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পাশের ট্রফিক্যাল লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার গোডাউন ও একটি মার্কেটে আগুন দেন।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, আগুনের খবর পেলেও শ্রমিক আন্দোলনের কারণে তাঁরা ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি। পরে গোডাউন ও মার্কেটের কয়েকটি দোকান পুড়ে যায়। এরপর ওই এলাকায় মহাসড়কে থাকা আরও একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

শ্রমিকেরা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হলেও তাঁদের বেতন বাড়েনি। বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় কম বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পিকেটারদের ইটের আঘাতে তিনি নিজেসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। থানা-পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছেন। শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আজ বিকেল ৪টায়ও শ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। দিনভর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় এ পথে চলাচলকারী পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা