November 4, 2026, 1:02 pm

স্পেনের ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের তালিকায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী

Reporter Name

স্পেনের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ড. মার্তা শাহবাজি। দেশটিতে ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৯ জন নিহত হয়েছেন। কেমব্রিজভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমআরসি ল্যাবরেটরি অব মলিকিউলার বায়োলজি (এলএমবি) মার্তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বিবিসি জানায়, গত ২৮ অক্টোবর মাদ্রিদের দক্ষিণে উর্দা এলাকার কাছে সংঘর্ষে জড়িত ট্রেন দুটির একটিতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন ড. মার্তা শাহবাজি। তিনি এলএমবিতে একটি গবেষক দল পরিচালনা করতেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তাঁকে অ্যাফিলিয়েট অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্পেনের সিমুস (CiMUS) ইনস্টিটিউট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় মার্তাকে ‘প্রতিভাবান তরুণ গবেষক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। কোষ জীববিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ মার্তা কেমব্রিজ বায়োমেডিক্যাল ক্যাম্পাসে অবস্থিত এলএমবির শাহবাজি ল্যাবরেটরি পরিচালনা করতেন। মানবভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশ নিয়ে গবেষণায় অবদানের জন্য তাঁকে স্প্যানিশ সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজির একটি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। স্পেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ার এল রোমপিডোতে আয়োজিত সংগঠনটির সম্মেলনে তাঁর হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়ার কথা ছিল।

এর আগে এলএমবি জানিয়েছিল, মার্তা দুর্ঘটনায় পড়া ট্রেনগুলোর একটিতে ছিলেন, তবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না।

স্পেনের সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলাভিত্তিক সিমুস ইনস্টিটিউট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানের গবেষক মারিয়া হোসে আলোনসোর ভাতিজি মার্তা শাহবাজির মৃত্যুতে ইনস্টিটিউটের পুরো সম্প্রদায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্তা ছিলেন একজন মেধাবী তরুণ গবেষক, এমআরসি ল্যাবরেটরি অব মলিকিউলার বায়োলজির গবেষক দলের প্রধান এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেম সেল ইনস্টিটিউটের অ্যাফিলিয়েট অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।

মার্তা শাহবাজি স্পেনের ন্যাশনাল ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে যোগ দেন। ২০২০ সালে তিনি এমআরসি ল্যাবরেটরি অব মলিকিউলার বায়োলজিতে যোগ দেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেনফে পরিচালিত একটি দ্রুতগতির ট্রেনের সঙ্গে ইরিও কোম্পানির পরিচালিত একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের সংঘর্ষে। রেনফের ট্রেনটি পেছন থেকে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয়। আধুনিক ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এটি। ২০১৩ সালের পর স্পেনে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার পর স্পেনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি ট্রেনে সব মিলিয়ে ৫৪০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া জানান, ইরিও পরিচালিত ট্রেনটিতে ১৪৬ জন যাত্রী ও একটি শিশু ছিল। অন্যদিকে রেনফে পরিচালিত ট্রেনটিতে ছিলেন ৩৯৭ জন যাত্রী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা