
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে মেয়র পদে জনপ্রিয়তায় সবার শীর্ষে উঠে এসেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারদের প্রত্যক্ষ মতামত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচালিত এক সপ্তাহের এই জরিপের ফলাফলে তার প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে।
জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অংশ নেওয়া সিংহভাগ নাগরিক মনে করছেন নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং একটি মানবিক নগরী গড়তে কয়েস লোদীর মতো অভিজ্ঞ ও তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতৃত্বের বিকল্প নেই। উল্লেখ্য, তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ড থেকে টানা ৪ বার নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
বন্দরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জরিপে মতামত দিতে গিয়ে বলেন, “আমরা এমন একজনকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই যিনি সুখে-দুঃখে সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন। সেই বিচারে কয়েস লোদী আমাদের প্রথম পছন্দ।”
দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কয়েস লোদী নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার আদায়ে বরাবরই সোচ্চার। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই ধারাবাহিক জনমুখী কর্মকাণ্ডই তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে এসেছে। নির্বাচনী ডামাডোল পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই এই জরিপের ফলাফল সিলেটের রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
জনমত জরিপে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পর এক প্রতিক্রিয়ায় রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “সিলেট আমার প্রাণের শহর। এই শহরের মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও দায়িত্ববোধ থেকেই প্রার্থী হওয়ার চিন্তা এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে কার্যকর নেতৃত্ব প্রয়োজন। আশা করি, দল আমার ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রাখবে।”
কয়েস লোদী জানান, নির্বাচিত হলে তার প্রধান অগ্রাধিকার হবে নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন করা। বিশেষ করে নগরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একই সাথে একটি ডিজিটাল ও স্বচ্ছ সিটি করপোরেশন গড়ে তুলতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, “বর্ষা এলেই নগরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়, যা নগরজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও এই জলাবদ্ধতার টেকসই সমাধান জরুরি।”
তরুণদের নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে এই নেতা বলেন, “তরুণেরাই দেশের ভবিষ্যৎ। আমি তাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা করেছি। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি নগরে সবুজায়ন বৃদ্ধি, খাল-নদী পুনরুদ্ধার এবং পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণে জোর দেব। পাশাপাশি, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমি সিলেটকে একটি আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বিনিয়োগবান্ধব শহর হিসেবে দেখতে চাই, যেখানে নাগরিকেরা গর্ব নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।”
সবশেষে কয়েস লোদী বলেন, “আমি সিলেটবাসীর সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। নগরবাসী ও দল আমাকে সুযোগ দিলে আমি সততা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। একটি সুন্দর সিলেট গড়তে আমি সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।”