
ভোরের আলো ফোটার মুহূর্তে, যখন বাবা ব্যস্ত ছিলেন স্রষ্টার ইবাদতে, ঠিক তখনই ঘরের ভেতর জন্মদাত্রী মায়ের হাতে প্রাণ গেল এক নিষ্পাপ শিশুর। সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার কালারুকা গ্রামে নিজের দেড় বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে বটি দা দিয়ে জবাই করার এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এই নৃশংসতা ঘটে।
নিহত ওই শিশুর নাম মাইমুনা জান্নাত তোহা (১ বছর ৮ মাস)। সে কালারুকা গ্রামের বাসিন্দা আমির আলীর সন্তান। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির মা সুবিনা বেগমকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ভোরেও আমির আলী ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিকটস্থ মসজিদে যান। ঘর ফাঁকা থাকার এই সুযোগে মা সুবিনা বেগম ধারালো বটি দা দিয়ে নিজ সন্তানের গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থরেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা-পুলিশ দ্রæত ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হত্যাকাÐের পর পুলিশ সুবিনা বেগমকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কাছ থেকে কোনো জবানবন্দি পাওয়া যায়নি।
বিকেলে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, “ঘটনার পর থেকেই সুবিনা বেগম সম্পূর্ণ নির্বাক। কোনো অনুশোচনা বা কান্নাকাটি না করে তিনি কেবল শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। নৃশংস এই অপরাধের পেছনের মূল কারণ উদঘাটনে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।”
ওসি আরও নিশ্চিত করেন যে, ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে শিশু তোহার মরদেহ তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল শনিবার গ্রেপ্তারকৃত সুবিনা বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে আমির আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুবিনা বেগম দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এই মানসিক বিকারগ্রস্ততার কারণেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
পবিত্র ভোরের এই মর্মান্তিক হত্যাকাÐের খবর ছড়িয়ে পড়ায় গোটা এলাকায় স্তব্ধতা নেমে এসেছে। এক নজর দেখতে প্রতিবেশীরা আমির আলীর বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।