April 16, 2026, 5:52 am
শিরোনাম :
সিলেট জেলা কৃষক দলের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সিলেটে ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন, কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে আসবে স্বস্তি : বাণিজ্যমন্ত্রী। এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের বিশেষ অভিজানে ৫০ লিটার চোলাই মদ সহ আটক ১ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার সুযোগ রয়েছে। ঢাকা ও ইসলামাবাদ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী। সিলেট রেড ক্রিসেন্টের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আবুল কাহের শামীমকে সংবর্ধনা। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদিরের আকস্মিক বাজার পরিদর্শন। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা গাইবান্ধা জেলা শাখার আয়োজনে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমার বৈঠক। সংসদে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির, এমপি বেকারত্ব মোকাবিলায় নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা।

সুনামগঞ্জ–৫ আসনে ক‌লিম উদ্দিন মিলন বিপুল বিজয়ী দুই উপজেলাবাসীর এক দাবিই “আমরা তাঁকে মন্ত্রী দেখতে চাই”

Reporter Name

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। এবারের নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট, যা দুই উপজেলার ভোটারদের আস্থা ও সমর্থনের এক বিরল দৃষ্টান্ত। এলাকায় এখন একটাই আলোচনা—ছাতক দোয়ারাবাজারের উন্নয়নের জন্য মিলন ভাইকে এবার মন্ত্রী করা হোক।”

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১২১ ভোট। এছাড়া খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টি, ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।

গণভোটেও অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য— ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৪ জন ‘হ্যাঁ’, আর ৭৬ হাজার ৫৩০ জন ‘না’ ভোট দিয়েছেন। চার দশকের রাজনীতিতে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন একটি পরিচিত ও পরীক্ষিত নাম বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে দীর্ঘ চার দশক ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন সুনামগঞ্জ–৫ আসনের পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা।

তার রাজনীতির যাত্রা শুরু ছাত্রজীবনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ থেকে। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদ প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দ্বিতীয়বার জয় পান।

একই বছরের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি যোগ দেন বিএনপিতে এবং দ্রুত সংগঠনে নেতৃত্বগুণে এগিয়ে যান। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আবারো নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও দলের প্রতি আনুগত্য, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠের রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা নেতৃত্বে পৌঁছে দেয় নতুন উচ্চতায়। ২০১৭ সালে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।
এবারের বিজয় তৃণমূলের সংগঠিত শক্তি ও জনগণের আস্থার প্রতিফলন।

সুনামগঞ্জ–৫ আসনে এবারের ফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তৃণমূলভিত্তিক সুসংগঠিত বিএনপি কাঠামো, মিলনের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতারই বহিঃপ্রকাশ। দুই উপজেলার গ্রামাঞ্চল, হাওর ও বাজারগুলোতে মিলনের পক্ষে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

নির্বাচনোত্তর সময়ে ছাতক–দোয়ারাবাজারজুড়ে এখন একটাই প্রত্যাশা স্থানীয় উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য এবার মন্ত্রিসভায় সুযোগ দেওয়া হোক মিলনকে।উন্নয়ন–অপেক্ষায় দুই উপজেলাবাসী মিলন ভাই মন্ত্রী হলে এলাকার ভাগ্য বদলাবে” স্থানীয়দের প্রত্যাশা গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে বাজার–মফস্বল, নেতাকর্মী থেকে সাধারণ কৃষক  সর্বত্র মিলনের বিপুল বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে উন্নয়নের জোর দাবি তুলছেন সবাই।

আলমপুর গ্রামের কৃষক সাইফুর উদ্দিন বলেন “আমরা ধান চাষ করে বাঁচি। কিন্তু রাস্তার অভাবে ন্যায্য দাম পাই না। এলাকায় উন্নয়নের জন্য শক্ত অবস্থান দরকার। তাই চাই মিলন ভাই মন্ত্রী হোন।

ছাতক পৌর বিএনপির আহবায়ক সামছুর রহমান সামছু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সম্পাদক একে রিপন তালুকদারসহ একাধিক নেতারা বলেন “এ বিশাল ব্যবধানের জয় প্রমাণ করে মিলন ভাইয়ের প্রতি মানুষের আস্থা কতটা দৃঢ়। তিনি মন্ত্রী হলে ছাতক–দোয়ারাবাজারের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।”

উপজেলা বিএনপির সদস্য আতাউর রহমান এমরান বলেন এতো বড় ব্যবধানের জয়ের সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশাও বিশাল। ভৌগোলিক–সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলের উন্নয়নে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে নজরই দিতে হবে।”
জেলা যুবদলের নেতা জহির আহমদ, ফারুক মিয়া ও ছাত্রদলের আহবায়ক মাহবুব আলম বলেন মিলন ভাই এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। তাকে মন্ত্রী করলে এই সেক্টরগুলো আরও এগিয়ে যাবে। মিলনকে মন্ত্রী করার দাবিতে দলীয় নেতাদের এক সুর উপজেলা জেলা বিএনপির সদস‌্য নজরুল ইসলাম ও আব্দুল হক বলেন ছাতক দোয়ারাবাজারের মানুষ ভোট দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলিতভাবে তাকে নির্বাচিত করেছে। আমরা বিশ্বাস করি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করবে।

তিনি আরও বলেন মন্ত্রী হলে সুনামগঞ্জ–৫ নয়, পুরো বৃহত্তর অঞ্চলের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।” উন্নয়ন–শান্তি সমৃদ্ধির নতুন প্রত্যাশা দুই উপজেলা বহু বছর ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ নানা খাতে পিছিয়ে রয়েছে। নদীপথে চাঁদাবাজি, সীমান্ত এলাকায় মাদক প্রবেশ, সন্ত্রাস–চাঁদাবাজির মতো সমস্যায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।এসব সমস্যা সমাধান ও বাস্তবমুখী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একজন শক্তিশালী মন্ত্রী প্রয়োজন এমন দাবি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। ছাতক–দোয়ারাবাজারের বিশাল বিজয়ের আনন্দ আজ নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। আর সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছেন এক পরিচিত নাম  কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা