
ভাটি অঞ্চলের রাজনীতির আকাশের দেদীপ্যমান ধ্রুবতারা, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং সংসদীয় রাজনীতির কবি খ্যাত প্রয়াত জননেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ৯ম প্রয়াণ দিবস আজ। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী এই তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ান।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কেবল সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লার গণমানুষের নেতাই ছিলেন না, বরং জাতীয় রাজনীতির এক অপরিহার্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯৪৫ সালে দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই নেতা ৭০-এর নির্বাচনসহ মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য। সংসদের ভেতর হাস্যরস, যুক্তি আর ক্ষুরধার বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেন। তাকে বলা হতো সংসদীয় রীতির জীবন্ত অভিধান।
একাত্তরের রণাঙ্গনে ৫ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তার শূন্যতা ভাটি অঞ্চলের রাজনীতিতে আজও অপূরণীয়। সংসদীয় রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও মেধার যে স্বাক্ষর তিনি রেখে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে।